Disqus Shortname

Monday, July 24, 2017

শুভ জন্মদিন সম্পাদক



আজ ২৪শে জুলাই, সিলেটে অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “সময়ের সংলাপ24” এর সম্পাদকের ২২ তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন “দিলোয়ার হোসেন”। “সময়ের সংলাপ24” পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছা।

এইচএসসি পড়ার সময় কর্মক্ষেত্রের অন্য কোন দিকে ধাবিত না হয়ে গড়ে তুলেন সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “সময়ের সংলাপ24”। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

জন্মদিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘জন্মদিনটা স্পেশাল হলেও এই দিন নিয়ে স্পেশাল কোন পরিকল্পনা নেই। অন্যান্য দিনের মত আজও অফিসে সময় দিবো। একজন সাংবাদিক হিসেবে মানুষকে সংবাদ জানানো আমাদের দায়িত্ব। তাই আজও মানুষের মাঝে সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটা থাকবে।’
Share:

Thursday, February 9, 2017

জানেন কী? বিশ্বের সফল ব্যক্তিরা কখন ঘুম থেকে ওঠেন!


স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, ‘‘ওঠ, জাগো, নিজে জেগে অপরকে জাগাও!’’ আবার বাজার চলতি প্রবাদ, ‘‘যে ঘুমায়, তাঁর ভাগ্যও ঘুমিয়ে থাকে৷’’
অর্থাৎ, জীবনে সফল হতে গেলে ঘুমের সঙ্গে আপস করতেই হবে৷আবার নিজেকে কষ্ট দিয়েও নয়৷ সুস্থ মানুষের জন্য পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ঠ৷ আর, দিনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া ও ঘুম থেকে ওঠাটাও একটি দৈনন্দিন শৃঙ্খলা৷

দিনের শুরুটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হলেই, বাকি দিনটাও নিজের আয়ত্তে আনা সম্ভব৷আর, এটাকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন পৃথিবীর একাধিক প্রতিষ্ঠা পাওয়া বহু মুখই৷ এই পৃথিবীর প্রতিটি সফল মানুষই সময়ের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন৷ ঘুমের মধ্যে সময় অপচয় না করেই তাঁরা আজ হয়ে উঠেছেন বিশ্ব নেতা৷

একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বে প্রতিটি সফল মানুষ অনেক ভোরেই ঘুম থেকে ওঠেন৷ ঘুম থেকে উঠে দিনের পরবর্তী কর্মসূচীগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন৷ফলে, দিনের শুরুটাই হয় পরিকল্পিত৷



মার্কিন সমীক্ষায় উঠে এসেছে বিশ্বের একাধিক সফল ব্যক্তির নাম৷ যাঁদের মধ্যে প্রায় প্রত্যেকেই অনেক আগেই ঘুম থেকে ওঠেন৷ এদের মধ্যে অনেকেই সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠে সারা দিনের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেন৷ প্রায় ৯০ শতাংশ সফল ব্যক্তিই সকাল ছ’টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে হাল্কা ব্রেকফাস্ট করে নেন৷ পরে, দেখে নেন তাঁদের দিনের পরবর্তী কর্মসূচী কি কি আছে৷ আর প্রতিটি কাজই করেন ঘড়ির কাঁটা ধরে৷

দেখে নেওয়া যাক, কারা কখন ঘুম থেকে ওঠেন…


নরেন্দ্র মোদী, প্রধানমন্ত্রী: সকালে ঘুম থেকে ওঠেন পাঁচটায়৷করেন প্রাণায়াম, সূর্য বন্দনা, যোগা৷

বারাক ওবামা, মার্কিন রাষ্ট্রপতি: নিয়ম করে সাড়ে ছ’টায় ঘুম থেকে ওঠেন৷করেন জিম৷সপরিবারে সারেন ব্রেকফাস্ট৷

ডেভিড ক্যামরুন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী: সকাল ছ’টায় তাঁর ওঠা চাই চাই৷ সকাল আটটা পর্যন্ত দিনের সমস্ত সরকারি কর্মসূচী খতিয়ে দেখেন৷ করেন সপরিবারে ব্রেকফাস্ট৷

টিম কুক, অ্যাপেল কর্তা : নিয়ম মেনে ঘুম থেকে ওঠেন সাড়ে চারটে নাগাদ৷ পাঁচটা পর্যন্ত জিম করেন৷সাড়ে পাঁচটায় ব্রেকফাস্ট৷ এরপর গোটার দিনের প্রস্তুতি নিয়ে নিজের দফতরে হাজির হন তিনি৷

জিফ বিজস, অ্যামাজন কর্তা: গ্রাহক পরিষেবা দেওয়াই তাঁর ধ্যানজ্ঞান৷ ঘুম থেকে ওঠেন অনেক সকালে৷ ঘুম থেকে উঠে একটু ব্রেকফাস্ট মুখে দিয়েই পৌঁছে যান নিজের দফতরে৷

বিল গেটস, মাইক্রোসফট: সকাল পাঁচটায় উঠে টানা এক ঘণ্টা শরীরচর্চা করেন৷

মার্ক জুকারবার্গ, ফেসবুক কর্তা: ওঠেন ভোর ছ’টায়৷ সকালেই পৌঁছে যান নিজের অফিসে৷

জ্যাক ডরসি, টুইটার: রোজ সকালে নিয়ম করে ঘুম থেকে ওঠেন সাড়ে পাঁচটায়৷ ধ্যান ও পরে পাঁচ মাইল হাঁটেন৷

রতন টাটা, টাটা সন্স: ঘুম থেকে ওঠেন ভোর ৪টায়৷ সকাল ৬টা থেকে দফতরের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন৷ আর সপ্তাহ শেষে লং ড্রাইভে যান৷

মুকেশ আম্বানি, রিলায়েন্স: রোজ সকালে পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে উঠে পড়েন৷ এক ঘণ্টা জিম করেন৷ নিয়ম করে পড়েন সংবাদাপত্র৷

বিরাট কোহলিও নিজে রোজ ছ’টায় উঠেন৷তখন থেকেই নেমে যান প্র্যাকটিসে৷

তাহলে, আর কী ভাবছেন? আগামী কাল থেকেই শুরু করেদিন৷ বদলে ফেলুন রোজনামচার জীবন!
Share:

Thursday, October 27, 2016

“একটি স্বাধীনতার গল্প”



মধ্য রাত হাটতে হাটতে বাড়ি ফিরছি। এলাকার শীহদ মিনারেন পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কাউকে গুণ গুণিয়ে কাদতে শুনলাম। থমকে দাড়ালাম, চারদিকে তাকিয়ে গুটি গুটি অন্ধকারে কাউকে দেখতে পেলাম না।
হাতের ফ্লাশ টা অন করলাম, একটা মানুষ দেখলাম শহীদ মিনারের এক কোনে বসে বসে কাদছে।
রাজ্যের বিষ্ময় নিয়ে এগুলাম মানুষটার দিকে,
কাছে যেতেই মনে হল আগে কখোন একে এই এলাকায় দেখেনি। তাই জিজ্ঞেস করলাম কে আপনি ভাই? এত রাতে এখানে কাদছেন কেন? মানুষটা চোখঁ তুলে তাকাল।

বিশ্বাস করুন ওই চোখ আমি আগে কখোন দেখেনি, ওই চোখে ছিল ঘৃণ্যা, ওই চোখে ছিল অভিশাপ, ওই চোখে ছিল কান্না, ওই চোখে ছিল বেদনার নীল ছায়া। অদ্ভুত কন্ঠে মানুষটা বলল! আমি স্বাধীনতা। আকাশ সমান বিষ্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম স্বাধীনতা! কোন স্বাধীনতা?
লোকটা বলল, আজ থেকে ৪৫ বছর আগে যেই স্বাধীনতার জন্ম হয়েছিল সেই স্বাধীনতা। ৩০ লক্ষ তাজা প্রণের বানিময় যেই স্বাধীনতা অর্জন হয়ে ছিল সেই স্বাধীনতা। ২লক্ষ নারীর সম্ভ্রম কোরবানি দিয়ে যাকে তোমরা পেয়ে ছিলে সেই স্বাধীনতা। রেসকোর্সের ১৮মিনিট রক্ত হিম করা ভাষণের পরে যেই স্বাধীনতা পেয়ে ছিলে সেই স্বাধীনতা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র যেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়ে ছিল সেই স্বাধীনতা।
অপরাধীর মত প্রশ্ন করলাম" কাদছ কেন তুমি? স্বাধীনতা বিষ্ময় নিয়ে আমার দিকে তাকাল!
বলল" কাদছি কেন আমি! আচ্ছা বলতে পর আজ থেকে ৪৫ বছর আগে আমাকে এদেশে আনা হয়েছিল কেন?
তনু নামের মেয়ে গুলোকে হত্যা করে ভাল্লুকে খাওয়ার গল্প বানানোর জন্য?
নাকি প্রকাশে বদরুলরা খাদিজাদের ইচ্ছে মত তাদের চাপাতির শিকার বানানোর জন্য?
আচ্ছা বিশ্ব জিৎ দের কি চাপাতির তলে প্রণা দেয়ার জন্যই আমাকে আনা হয়েছিল?
নাকি দরজির হাতে রুশাদের মত মেয়ে গুলোর প্রাণ দেয়ার জন্য?
আচ্ছা মায়ের সামনে ৮জন মিলে মেয়ে ধর্ষণ করার জন্যই কি আমাকে আনা হয়েছিল?
নাকি এক অসহায় ভাইয়ের সামনে তার বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়ার জন্য আমায় জন্ম দিয়েছিল?
নাকি কাটা তারে আটকে থাকা ফেলানিদের লাশের জন্য আমাকে আনা হয়েছিল।
চলতি বাসে পেট্রোলের আগুনে অসহায় মানুষের হৃদপিন্ড দগ্ধ করার জন্যই কি আমাকে আনা হয়েছিল?

চরম অপরাধ বোধ নিয়ে শুনছিলাম স্বাধীনতার কথা, হঠাৎ দূরে কয়েকজন মানুষকে দেখলাম এদিকে আসছে।
ফ্লাশের আলোয় তাদের হাতে চকচক করছে বড় বড় চাপতি আর ইস্পাতের মত ধারালো ছুরি।
হৃদপিন্ডেটা এক লাফে গলার কাছে চলে আসল, বুঝতে পারছিনা এরা কি শুধু চিন্তাই কারির দল নাকি কোন নেতার পেলে পুষে বড়া করা সন্ত্রাসীর দল। প্রাণের মায়ায় ছুট লাগালাম বাড়ির দিকে, পিছনে স্বাধীনতা হাসছে আকাশ কাপিঁয়ে হাসে। বুঝতে পারিনি হাসিটা কিসের ছিল! ঘৃণ্যার নাকি অভিশাপের? (সংগ্রহিত)
Share:

Sunday, August 21, 2016

যেসব খাবার রাতে ভুল করেও খাবেন না


রাতের খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই বিছানায় যাওয়া ঠিক নয়। বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য গবেষকদের মতে, রাতে কিছু তুচ্ছ খাবার রয়েছে যা খেয়ে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। তাই, স্বাস্থ্যের জন্য আত্মঘাতী খাবারগুলো সম্পর্কে আজ জানানো হল-

১. পনির:
পনির শরীরকে মোটা করার জন্য যথেষ্ট। তাই, পনিরকে খুব সংযতভাবে খাওয়া উচিৎ। অনেকেই পনির পেলে খেতেই থাকেন। কিন্তু, পনির হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও শরীরে উচ্চমাত্রায় চর্বি ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে।

২. মসলাযুক্ত খাবার:
অতিরিক্ত মসলাদ্বার খাবারের জন্য আপনার জ্ঞান লোপ পেতে পারে। এছাড়াও ঝালযুক্ত খাবারের ফলে বুকে জ্বালা করে এবং মাঝে মাঝে পেটে ব্যথারও উপক্রম হয়। রাতে শোবার আগে অবশ্যই কেউ পেটে ব্যথায় ভুগতে চাইবে না।

৩. ফ্যাটযুক্ত খাবার:
পিজা, বার্গার, আলুর চিপস ইত্যাদি খেতে অনেক মজাদার হলেও এগুলো আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে রাতে এগুলা না খাওয়াই ভালো। এসব খাদ্যের ফলে আপনার পরিপাকক্রিয়াতে সমস্যা হবার সাথে সাথে আপনার ওজন ও বৃদ্ধি পাবে। পরের দিন সকালে আপনার অবশ্যই অনেক খারাপ লাগবে এবং সারাদিনের কাজ সম্পাদনের জন্য জরুরী শক্তি আপনার মধ্যে থাকবেনা।

৪. মাংস:
মাংস খুব তাড়াতাড়ি হজম হয় না। এর জন্যই রাতে মাংস খাওয়া একদমই ঠিক নয়। মাংস খাবার পর পরই যদি আপনি ঘুমাতে চলে যান, তাহলে আপনার ঘুম আসতে দেরি হবে।

৫. মিষ্টিজাতীয় খাবার:
আইসক্রিম, চকলেট, ক্যান্ডি বার ইত্যাদি খাওয়ার পর খেলে তা আপনার খাদ্য হজমে সাহায্য করবে। কিন্তু এতেও রয়েছে ফ্যাট। তাই, ঘুমানোর আগে অবশ্যই ফ্যাটযুক্ত কোন খাবার খাবেন না।

ঘুমাতে যাবার অন্তত ২০ মিনিট আগে সকল প্রকার খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে। খাবার পর অন্তত ১৫ মিনিট হাঁটুন। বিছানায় যাবার আগে খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন।
Share:

Thursday, August 18, 2016

৪৫ কিলোমিটার দৌড়ে অফিস করেন আবদুর রাজ্জাক!

রি-পোষ্টঃ জোরকদমে হেঁটে অথবা দৌড়ে অফিসে যান আবদুর রাজ্জাক। রেলগাড়ি আর বৃদ্ধাকে নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলে একটি প্রচলিত কৌতুক আছে। কৌতুকটি হচ্ছে বৃদ্ধা মহিলা বলছেন, ‘আমার তাড়া আছে। আমি হাঁটলাম। তোমরা ট্রেনে এসো।’ তবে আবদুর রাজ্জাকের জন্য বিষয়টি মোটেই কৌতুক নয়। বাস্তব। বাসে গেলে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। আবদুর রাজ্জাক হেঁটে গেলে সময় নেন প্রায় আড়াই ঘণ্টা। আবদুর রাজ্জাক হাঁটেন ‘জোর কদমে’। অর্থাৎ তাঁর হাঁটাকে হাঁটা না বলে ‘দৌড়-ই’ বলতে হয়। তাই বলে একটানা ৪৫ কিলোমিটার! হ্যাঁ, টানা ৪৫ কিলোমিটার পথ দৌড়ে অফিসে যান তিনি। আবার দৌড়েই বাড়ি ফেরেন। অবশ্য ফেরার সময় আরও আধা ঘণ্টা সময় বেশি নেন।

এই দৌড়বিদের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার বখতিয়ারপুর গ্রামে।

তিনি এখন কীর্তিপুর তহশিল অফিসের অফিস সহকারী পদে কর্মরত আছেন। তাঁর বয়স ৪০।

আবদুর রাজ্জাক একসময় ছিলেন ম্যারাথন দৌড়বিদ। বখতিয়ারপুর গ্রামের জহির উদ্দিন সরদারের ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক সবার ছোট। পড়াশোনা করেছেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। গত ২১ জুলাই সকালে রাজ্জাকের বাড়িতে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। কীভাবে এই কঠিন কাজ সম্ভব করছেন, জানতে চাইলে রাজ্জাক বলেন, ‘নাটোরে বড় ভাইয়ের বাসায় থাকতাম। টুকটাক টিউশনি করি। ১৯৯৩ সালের কথা। নাটোরের সিংড়া ব্রিজ থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা হবে শুনেই অংশ নিলাম। প্রথম হলাম। একইভাবে পরপর ছয়বার প্রথম হলাম।’

আবদুর রাজ্জাক জানান, প্রথমবার তাঁর প্রতিভা দেখেই আনসার বাহিনীর পক্ষে ঢাকায় আনসার একাডেমিতে ৪২ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতায় তাঁর ডাক পড়ে। সেখানে তৃতীয় হন তিনি। এ ছাড়া রাজশাহীতে ‘অলিম্পিক ডে রান’ প্রতিযোগিতায় পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হন। একই সময়ে ঢাকায় জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় ৪২ কিলোমিটার দৌড়ে চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থান অধিকার করেন।

সর্বশেষ ২০০৭ সালে কক্সবাজারে ‘বাংলা ম্যারাথন’ দৌড়ে অংশ নেন তিনি।

আবদুর রাজ্জাকের ভাষায়, ‘এই দৌড়ের সূত্র ধরেই আমার চাকরিতে যোগদান। ২০০৮ সালের কথা। নওগাঁয় বাড়িতেই থাকি আর নিয়মিত প্র্যাকটিস করি। প্র্যাকটিস দেখে সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা ডেকে আমার সম্পর্কে জানতে চান। তাঁরা আমার সনদগুলো দেখে ভীষণ খুশি হন। তখন নওগাঁয় জেলা প্রশাসক ছিলেন শেফাউল করিম। তাঁরা আমাকে বলেন, “আবদুর রাজ্জাক আমাদের সম্পদ। তাঁকে কাজে লাগাতে হবে।” তাঁরা আমার জন্য একটা চাকরির সুপারিশ করেন। এরপর চাকরির সার্কুলার হলে তহসিল অফিসে অফিস সহকারী পদে আবেদন করি। চাকরি হয়ে যায়। নওগাঁর ধামুইরহাট উপজেলার আড়ানগর ইসবপুর তহসিল অফিসে যোগদান করি।’

আবদুর রাজ্জাক জানান, চাকরিতে ঢোকার পরে তাঁর প্র্যাকটিসের আর সময় হাতে থাকে না। বাড়ি থেকে অফিসের দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার। বাস বিভিন্ন স্টপেজে থামতে থামতে যায়। সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। তিনি সিদ্ধান্ত নেন—দৌড়েই অফিসে যাবেন। এতে একই সঙ্গে তাঁর অনুশীলন হয়ে যাবে। যা বলা, তাই কাজ। তিনি আড়াই ঘণ্টায় অফিসে যান। তিন ঘণ্টায় ফিরে আসেন। দুই বছর পরে তাঁকে একই উপজেলার ভরতিডাঙ্গা তহসিল অফিসে বদলি করা হয়। বাড়ি থেকে দূরত্ব ছিল ৪৭ কিলোমিটার। সেখানে তিন মাস একইভাবে দৌড়ে গিয়ে চাকরি করেছেন। এরপর তাঁকে নওগাঁর সদর উপজেলার কীর্তিপুর অফিসে বদলি করা হয়। বাড়ি থেকে দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। দূরত্ব কমলেও আবদুর রাজ্জাকের দৌড় থামেনি। তিনি উল্টো পথে ৪০ কিলোমিটার ঘুরে একইভাবে অফিস করেন।

আবদুর রাজ্জাক গত বছর তিনি একটি দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি ট্রাকের পাশ দিয়ে দৌড়ে যাওয়ার সময় পাথরকুচি এসে পড়ে তাঁর চোখে। চিকিৎসা করছেন। কিন্তু তেমন উন্নতি হয়নি। এখনো চোখে ঝাপসা দেখেন। এ জন্য অনুশীলন করতে পারছেন না। আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘চোখ ঠিক হলেই আমি আবার ৪০ কিলোমিটার দৌড়েই অফিস যাওয়া-আসা শুরু করব।’

শুনে অবাক হতে হলো, এ রকম দৌড়বিদের খাদ্যতালিকায় খুব একটা বিশেষ কিছু নেই। সকালে ৫০ গ্রাম কাঁচা ছোলা খেয়ে বের হন। অফিসে পৌঁছানোর পর ১০০ গ্রাম কাঁচা বাদাম খান। এ ছাড়া দৈনিক দুটি ডিম আর কলা। আর বাকি সবই দৈনন্দিন স্বাভাবিক খাবার।

আবদুর রাজ্জাকের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ের বয়স ১০ বছর। ছেলেটা ছোট, বয়স দেড় বছর।

আবদুর রাজ্জাকের দৌড় সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় তহসিলদার সমিতির মহাসচিব মোদুদুর রহমান বলেন, ‘এলাকায় আবদুর রাজ্জাক “ম্যারাথন রাজ্জাক” হিসেবেই পরিচিত। তিনি ভীষণ পরোপকারী ও ভালো মনের মানুষ। কেউ কোনো জিনিস আনতে বললে রাত-দিন দেখা নেই তিনি দৌড়ে গিয়ে তা এনে দেন।’

খুব দ্রুত কোথাও যেতে না হলে আবদুর রাজ্জাক অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে যান।
Share:

Tuesday, August 9, 2016

রবিতে আকর্ষণীয় চাকরি

চাকরি চাই ডেস্ক:আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রবি। লিংকডইন ডটকমে প্রকাশিত এক বিজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির এন্টারপ্রাইজ বিজনেস বিভাগে ‘কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার’ নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মস্থল হবে চট্টগ্রাম জেলায়। দেখে নিন আবেদনের জন্য বিস্তারিত :


যোগ্যতা
স্বনামধন্য দেশি বা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন পদটিতে। প্রার্থীদের বিটুবি বা বিটুসি কর্মক্ষেত্রে এক থেকে দুই বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা না থাকলেও আবেদন করতে পারবেন প্রার্থীরা। এ ছাড়া আবেদনকারীদের কম্পিউটারে দক্ষ হতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া
পদটির জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করলেই প্রার্থীরা সরাসরি লিংকডইন ডটকমের (bit.ly/2aYeqLU) মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
Share:

Tuesday, August 2, 2016

সবুর স্যার স্মরণে শনিবার মিলাদ মাহফিল


নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ সুরমার জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুস সবুর স্যার’র মৃত্যুতে এক মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।  প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মাহফিল আগামী ৬ আগস্ট ২০১৬, শনিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে।

উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতি কামনা করা হয়েছে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে। এছাড়া যারা মাহফিলে আর্থিক সহায়তায় শরীক হতে চান, তারা এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছেঃ

০১৬২৪০৬১০৫৮ (দিলোয়ার),

 ০১৭৪৯৩১৩৭১৩ (শাকির),

০১৭৯০২৯৭০৬৪ (সামাদ),

০১৭২৯৯২২৮৮৪ (কামরান),

০১৭৪৭১০৩৫০৪ (সামাদ)।

Share:

Friday, July 29, 2016

বিশ্বে সবচেয়ে লম্বা ডাচ ও লাটভীয়রা

লাটভীয় নারীদের গড় উচ্চতা ১৭০ সেন্টিমিটার।
বিশ্বব্যাপী উচ্চতা নিয়ে করা সবচেয়ে বড় গবেষণায় দেখা গেছে, নেদারল্যান্ডসের পুরুষ (ডাচ) ও লাটভীয় নারীরা এই গ্রহের সবচেয়ে লম্বা মানুষ।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, গেল শতকে ইরানি পুরুষ ও দক্ষিণ কোরীয় নারীদের উচ্চতা সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা এক সময় বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মানুষদের মধ্যে থাকলেও ২০১৪ দেশটির পুরুষরা বিশ্বের মধ্যে ৩৭তম ও নারীরা ৪২তম অবস্থানে আছেন।

একশ বছর আগে এ দেশেটির পুরুষরা উচ্চতায় বিশ্বের মধ্যে ৩য় স্থানে ও নারীরা ৪র্থ স্থানে ছিলেন।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে গবেষণাটি করা হয়েছে এবং ইলাইফ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এ গবেষণায় আরো দেখা গেছে, গেল ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে কিছু জাতির মানুষের উচ্চতা বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ একশ বছর আগে গবেষণা শুরুর সময় এসব জাতির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছিল।

সম্পদশালী দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম প্রথম দেশ যার নাগরিকদের উচ্চতা বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে। এ ধারার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড ও জাপান অন্যতম।

তবে স্পেন ও ইতালি এবং লাতিন আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের মানুষের উচ্চতা বৃদ্ধি এখনও অব্যাহত আছে।

এর বিপরীতে আফ্রিকার সাহারা অঞ্চল ও উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের মানুষদের গড় উচ্চতা গেল তিন থেকে চার দশকের মধ্যে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

পুষ্টি ও পরিবেশগত বিষয়গুলো মানুষের উচ্চতার ক্ষেত্রে জোরালো প্রভাব ফেলে, তবে কোনো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে বংশগতিও একটি ভূমিকা রাখে। সাধারণত তুলনামূলক ভালো খাবার ও ভাল পরিবেশে বড় হওয়া শিশু ও কিশোররা লম্বা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাচ্চা পেটে থাকার সময় মায়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিও তার শিশু কতোটা লম্বা হবে সেক্ষেত্রে একটা প্রভাব রাখতে পারে।

উচ্চতার সঙ্গে জীবনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লম্বা মানুষজন বেশি দিন বেঁচে থাকে, ভালো পড়াশোনার সুযোগ পায় এবং বেশি আয় করে। তবে লম্বা হওয়ার কিছু ঝুঁকিও আছে। এ ধরনের মানুষদের গর্ভাশয় এবং প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

ইম্পেরিয়াল কলেজের জনস্বাস্থ্য বিষয়ের অধ্যাপক মাজিদ ইজ্জাতি বলেন, “এই গবেষণা গেল শতকে জাতিগুলোর স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমাদের একটি ধারণা দিয়েছে।”
বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ডাচ পুরুষদের গড় উচ্চতা ১৮২ দশমিক দুই সেন্টিমিটার। ছবি: রয়টার্স

গবেষণায় ৮০০টি শক্তিশালী গবেষক দল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছে। এক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া লোকজনের তথ্য, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক জনজরিপ থেকে শুরু করে রোগতত্ত্বসহ বিভিন্ন তথ্য‍উৎস ব্যবহার করা হয়েছে।

১৯১৪ থেকে শুরু করে ২০১৪ পর্যন্ত ১৮ বছর বয়সীদের তথ্য নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণাটি সম্পন্ন করেছেন।

তারা দেখেছেন, এই সময়ের মধ্যে ইরানি পুরুষদের গড় উচ্চতা ১৬ দশমিক পাঁচ সেন্টিমিটার এবং দক্ষিণ কোরীয় নারীদের উচ্চতা ২০ দশমিক দুই সেন্টিমিটার বেড়েছে।

এই একশ বছরে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের গড় উচ্চতা ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষদের গড় উচ্চতা ছয় সেন্টিমিটার ও নারীদের গড় উচ্চতা পাঁচ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এই সময়ে চীনা পুরুষদের গড় উচ্চতা ১১ সেন্টিমিটার ও নারীদের গড় উচ্চতা ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ডাচ পুরুষদের গড় উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৮২ দশমিক দুই সেন্টিমিটার, আর লাটভীয় নারীদের গড় উচ্চতা ১৭০ সেন্টিমিটার।

২০১৪ সালে বিশ্বের সবচেয় খাটো পুরুষরা পূর্ব তিমুরের। তাদের গড় উচ্চতা ১৬০ সেন্টিমিটার।

অপরদিকে একই বছর বিশ্বের সবচেয়ে খাটো নারীরা গুয়াতেমালার, তাদের গড় উচ্চতা ১৪৯ সেন্টিমিটার।
Share:

Thursday, July 28, 2016

‘১৫ আগস্টেই খুন করা হবে মোদিকে’!


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১৫ আগস্টেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ছক কষছে জঙ্গিরা। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে এমনটাই সতর্কবার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী যখন জাতির

উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন, তখন ড্রোনের সাহায্য তার ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে জঙ্গিরা।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, লস্কর-এ-তৈয়বা, জইশ-এ-মোহাম্মদের মতো জঙ্গিগোষ্ঠী যৌথভাবে এ হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে।

তাদের সাহায্য করবে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএস। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জঙ্গিদের টেলিফোনে কথোপকথন থেকে এ সূত্র মিলেছে। 

এছাড়া স্বাধীনতা দিবসের আগে সেনাসহ অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনীর কনভয়েও হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা। সূত্র : জিনিউজ
Share:

Wednesday, July 27, 2016

হ্যাকের শিকার সবচেয়ে বড় পর্নোগ্রাফি শেয়ারিং সাইট 'পর্নহাব'

হ্যাকের শিকার হয়েছে সবচেয়ে বড় পর্নোগ্রাফি শেয়ারিং সাইট পর্নহাব। প্রকাশ পেয়েছে সাইট ব্যবহারকারীদের পর্ন দেখার অভ্যাসের তথ্য।

হ্যাকাররা প্রাপ্তবয়স্কদের এই সাইটটিতে অ্যাকসেস নেওয়ার একটি উপায় খুঁজে পেয়েছে। সেইসঙ্গে তারা কিছু ব্যবহারকারীর গোপন কিছু তথ্যও প্রকাশ করেছে। তবে, আর এমনটা না করার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন! 

নিরাপত্তা গবেষকরা সাইটের ডেটাবেইসে হ্যাকারদের প্রবেশের পথ খুঁজে পেয়েছেন। এই ডেটাবেইসে ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে সংবেদনশীল অনেক তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট।

দৈনিকটির প্রতিবেদন ভাষ্যমতে, ভুল হাতে এসব তথ্য পড়লে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। এর আগে 'অ্যাশলি ম্যাডিসন'-এর মতো সংবেদনশীল ওয়েবসাইট থেকে ব্যবহারকারীদের গোপন তথ্য প্রকাশের প্রভাব ছিল 'সর্বনাশা'। 

কীভাবে আসলে সাইটের নিরাপত্তা লঙ্ঘন করা হয়েছে, তা নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে হ্যাকাররা বলে- "পর্নহাবের বাগ বাউন্টি প্রোগ্রাম আর এজন্য নির্ধারিত উচ্চমূল্যের পুরষ্কার আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।" এজন্য তারা শক্তিশালী আক্রমণের ধারণা নিয়ে নেন আর সিস্টেমের যতটা ভিতরে সম্ভব প্রবেশের লক্ষ্য ঠিক করেন বলেও জানান তারা। 

এর মাধ্যমে তারা জিতে নিয়েছেন ২০,০০০ মার্কিন ডলার। পুরস্কারের অর্থ এসেছে পর্নহাবের 'বাগ বাউন্টি প্রোগ্রাম' থেকে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে পর্নহাব নগদ পুরস্কার দিয়ে ত্রুটি খুঁজে বের করে তা সমাধান করার জন্য হ্যাকারদেরকে উৎসাহিত করে।

সব ওয়েবসাইটই চায় তাদের ব্যবহারকারীদের তথ্য নিরাপদ রাখতে। এজন্য তারা নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করে তা সমাধান করে দেওয়ার জন্য হ্যাকারদের প্রস্তাব করে থাকেন।

পিএইচপি ব্যবহার করে তৈরি এমন অন্যান্য সাইটের সুরক্ষায়ও এই হ্যাক কাজে দেবে বলে মত দৈনিকটির।
Share:

Monday, July 25, 2016

প্রেম না করার সুবিধা কী?



ফিচার ডেস্ক: ‘আরে এত বয়স হয়ে গেল আর এখনো একটা প্রেম করতে পারলে না?’ – প্রেম না করার কারণে এ ধরনের প্রশ্ন শুনতে হয়েছে কখনো? এ ধরনের কথা শুনে আর অস্বস্তিতে পড়তে হবে না।

যারা এ ধরনের প্রশ্ন করবে তাদের প্রেম না করার যে কত সুবিধা রয়েছে সেই তালিকাটি একবার শুনিয়ে দিবেন। দেখবেন, সে নিজেও প্রেম করার জন্য আফসোস করবে!

লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট নায়রাল্যান্ডের এক প্রতিবেদনে প্রেম না করার সুবিধাগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

১. প্রেম না করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনার অনেক সময় বেঁচে যাবে। কারো জন্য ঘণ্টার পর ঘণ।টা অপেক্ষা করতে হবে না। অযথা সময় নষ্ট করতে হবে না। বরং আপনি অঢেল সময় পাবেন নিজের জন্য কিছু করার। এই ফাঁকে নিজের ক্যারিয়ারটা গুছিয়ে নিতে পারবেন।
২. ঘুমাতে সবাই পছন্দ করে। কিন্তু প্রেম করলে রাত জেগে কথা বলার বদভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। তাই ঠিকমতো না রাতে ঘুম হয় না দিনে। তাই যদি বেশি করে ঘুমাতে চান তাহলে প্রেম থেকে দূরে থাকুন।

৩. বাবা-মা অথবা বড় ভাইবোনের ভয়ে ফোন লুকিয়ে রাখতে হবে না। তাদের আড়ালে দরজা বন্ধ করে ভয়ে ভয়ে কথা বলতে হবে না। ঘরের যেকোনো জায়গায় ফোন চার্জ দিতে পারবেন। বারবার ফোনের পাসওয়ার্ড বদলাতে হবে না। এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, প্রেম না করার কত সুবিধা!

৪. আপনার চেহারা কেমন বা নতুন পোশাকটাতে আপনাকে দেখেতে কেমন লাগছে এটা খেয়াল করার কোনো প্রয়োজন হবে না। সবসময় পরিপাটি থাকারও দরকার হবে না।

৫. যেকোনো রেস্তোরাঁয় খেতে যেতে পারবেন। চাইলেই নিজের পছন্দমতো খাবার অর্ডার দিতে পারবেন। অন্য কারো পছন্দের ওপর আপনাকে নির্ভর করতে হবে না। আর হ্যা, চিবিয়ে চিবিয়ে আস্তে খাবার খেতে হবে না। আর চামুচ দিয়ে খাচ্ছেন না হাত দিয়ে খাচ্ছেন কে খেয়াল করবে বলুন?

৬. মধ্যরাতে আপনাকে রোমান্টিক এসএমএস লিখতে হবে না। সকাল হলেই প্রথম ফোন দেওয়ার ঝামেলা থাকবে না। কী খেয়েছে, কোথায় যাচ্ছে, এখন কী করছে এগুলো একটু পর পর ফোন করে জানার কোনো দরকার হবে না।

৭. মেয়েরা যেকোনো ছেলের সঙ্গে কথা বলতে পারবে আর ছেলেরা যেকোনো মেয়ের সঙ্গে চাইলেই কথা বলতে পারবে। কোনো কিছুতে কোনো বাধা থাকবে না।

৮. যে কারো সঙ্গে মন চাইলেই ঘুরতে যেতে পারবেন। কেন গিয়েছ, কার সঙ্গে যাচ্ছ- এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না।
৯. সারাক্ষণ অভিযোগ শুনতে হবে না। নিজের মনমত সবকিছু করতে পারবেন। কোথাও দেরিতে পৌঁছালেও কোনো সমস্যা নেই।

১০. বিয়ের জন্য কোনো তাড়া নেই। ছেলেদের তাড়াতাড়ি চাকরি খুঁজতে হবে না। আবার মেয়েদের ইচ্ছে করে বিয়ে ভাঙতে হবে না। এর থেকে সুবিধা আর কী আছে বলুন?
Share:

Sunday, July 17, 2016

গ্রামীণফোনে নিয়োগ, সুযোগ থাকছে নতুনদেরও

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্বনামধন্য টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। এক্সিকিউটিভ- কালেকশন অপারেশন পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পদটিতে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি আবেদন করতে পারবেন অনভিজ্ঞরাও।
আবেদনের যোগ্যতা
ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং থেকে স্নাতক পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের যোগাযোগে দক্ষ, বিশ্লেষণ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং মাইক্রোসফট এক্সেলসহ অন্যান্য কম্পিউটার প্রোগ্রামে জ্ঞান থাকতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া
আগ্রহী প্রার্থীরা গ্রামীণফোনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ২১ জুলাই পর্যন্ত সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে তাঁকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হবে। এসব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করলে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে। তবে আগে রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে নতুনভাবে আর করার প্রয়োজন হবে না।
Share:

Wednesday, May 18, 2016

মেয়েরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে যেসব গোপন কথা বলে!

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : প্রচলিত একটি কথা হল মেয়েরাই মেয়েদের সব থেকে বড় শত্রু হয়। এই কথা অবশ্য সব ক্ষেত্রে কখনওই প্রযোজ্য হয় না। কারণ একটা মেয়েই কিন্তু আর একটা মেয়ের মনের ভাব সব থেকে ভালোভাবে বুঝতে পারে। এছাড়া মায়ের মতো পথপ্রদর্শক হিসেবেও কাজ করে একজন ভালো বন্ধু।
তবে এবার দেখে নিন, একটা মেয়ের সঙ্গে আর একটা মেয়ের গোপনে ঠিক কি কি কথা হয়...

১. মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সঙ্গেই পার্টিতে যেতে সব থেকে বেশি স্বাছন্দ্য বোধ করে। সব থেকে বড় কথা হল কোনও বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়াই তারা পার্টি করতে বেস ভালবাসে।

২. নিজের পছন্দের থেকে বন্ধুর পছন্দের ওপর সব থেকে নির্ভর করে। তাই শপিং-এ যাওয়ার সময় বয়ফ্রেন্ডকে নয় নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডকেই নিয়ে যায়। এমনকি বিশেষ অনুষ্ঠানে বন্ধুর জামা চেয়ে পড়ে যাওয়ার মধ্যে অদ্ভুত আনন্দ পায় মেয়েরা।

৩. মাথা গরম। কিন্তু কারোর ওপর সেই রাগ দেখাতে পারছে না। তাই নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডকে ফোন করে অথবা তার সঙ্গে দেখা করে রেগে যাওয়া মানুষটির সমস্ত রাগ অকথ্য গালাগালির মাধ্যমে উগরে দিয়ে শান্তি পাওয়া যায়।

৪. স্কুল অথবা কলেজে পড়ার সময় জীবনের প্রথম নেশাটাও বেস্টফ্রেন্ডের সঙ্গে করার একটা আলাদা মজা পাওয়া যায়। এমনকি রাস্তায় নেশা করার সময়ও সে যদি সঙ্গে থাকে তাহলে একটা আলাদা মনোবল পাওয়া যায়।

৫. কোনও যুক্তি ছাড়াই ঝগড়া করা। ক্ষণিকের জন্য আরি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ভাব করে নেওয়া।

৬. বয়ফ্রেন্ড অথবা পৃথিবীর যে কোনও মানুষের সামনে খাবার খাওয়ার সময় একটা সালীনতা বজায় রাখতেই হয়। কিন্তু বেস্টফ্রেন্ডের সামনে খাওয়ার সময় কোনও সালীনতা বজায় রাখার কোনও দরকার পড়ে না। কারণ রেস্টুরেন্টে গিয়ে বাঁদরামি করাতেও যে সেই সায় দেয়।

৭. নিজেরদের ছেড়ে বাকি আর ৫টা মেয়েকে নিয়ে গসিপ করা। তাদের জামা-কাপড় দেখে নিজেদের মধ্যে কথা বলা। নিজেদের সঙ্গে তাদের তুলনা করা।

৮. ছুটি কাটাতে যাওয়া। ছুটিতে গিয়ে অপরিচিত স্থানে যা খুশি তাই করা। কোনও বাধা না মানা। যা খুশি খাওয়া। যখন খুশি ঘুরতে যাওয়া।

৯. নিজের প্রথম প্রেমের সঙ্গে কি কি কাণ্ড ঘটিয়েছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেওয়া। এমনকি প্রথম সম্পর্কের কথা তাকে জানানো। তার সঙ্গে তার মতামত চাওয়া।

১০. মায়ের অবর্তমানে তাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। যে কথা মাকে বলা যায় না, সেই কথা তার সঙ্গে শেয়ার করা যায়।

Share:

Monday, May 2, 2016

জানেন, যাদের নামের প্রথমে P ও D বর্ণ দিয়ে শুরু হয় তারা কেমন মানুষ?

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : প্রিয় পাঠক আমরা এর আগে আপনাদের জানিয়েছি S, M এবং A বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া নামের মানুষগুলো কেমন হয়ে থাকে। তবে সেই ধারবাহিকতায় এবার আপনাদের জানাবো যাদের নাম P অথবা D বর্ণ দিয়ে শুরু হয়। তাহলে এবার আসুন এক নজরে জেনে নেয়া যাক এই দুটি বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া নামের মানুষগুলো কামন হয়।

P :

১) P বোঝায় ক্ষমতা।
২) এঁরা প্রতিভাবান ও চিন্তাশীল হন।
৩) সুবক্তা হওয়ায় এঁরা সহজেই অন্যকে প্রভাবিত করতে পারেন।
৪) যে কোনো বিষয়ে এঁরা প্রচণ্ড পসেসিভ।
৫) সারাক্ষণ আত্মমগ্ন থাকেন। অন্যকে নিয়ে ভাবার এঁদের সময় নেই।

D:
১) এঁরা অবশ্য ভীষণ অর্গানাইজড।
২) জীবনে সবকিছুতে ব্যালান্স রাখতে এঁরা ওস্তাদ।
৩) এঁদের ইচ্ছাশক্তি প্রচুর। প্রচণ্ড মনোযোগী হন।
৪) নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
৫) তবে এঁরা একগুঁয়ে হন। কখনো কোনো বিষয়ে আপোস করা এঁদের পছন্দ নয়।

উল্লেখ্য, যদিও মানুষ তার নিজের মত করেই আচরণ করে থাকে। এখানে নামের উপর তার প্রভাব খুব বেশি একটা পড়েনা। যদিও আমরা বলে থাকি উমুক দেশ, ভিবাগ, জেলা বা থানার মানুষ ভালো নয়! আসলে এ কথাটি সঠিক নয়, কারণ সব এলাকাতেই ভালো মানুষ যেমন রয়েছে তেমনি কিছু খারাপ মানুষও রয়েছে। তেমনি যেই এলাকার মানুষগুলোকে আমরা অনেক ভালো বলে মনে করি সেই এলাকায় যে খারাপ মানুষ নেই তা কিন্তু নয়। তাহলে এটা আমাদের মনের ধারণা মাত্র। সেই থেকেই এই লেখাটি প্রকাশ করা। যদি কারো নামের সাথে মিলে যায় তাহলে আপনি যে এমনটি হবে তা ঠিক নয়। এটা গবেষকদের ধারণা মাত্র। আর আমরা তা আপনাদের জানার সুবিদার্থে প্রকাশ করেছি।-জিনিউজ
Share:

Thursday, April 28, 2016

কালেমা তাইয়্যেবায় গুরুত্ব ও ফজিলত

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয় হাবীব নবী করীম (সাঃ)-এর প্রিয় উম্মতগণকে চির সুখময় জান্নাত প্রদানের জন্য বেশ কিছু পথ পাথেয় নির্ধারণ করে রেখেছেন। এগুলোর মধ্যে কালেমা তাইয়্যেবা অন্যতম। যারা প্রতিদিন এ সর্বোত্তম কালেমাটি পাঠ করবেন তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত নেয়ামত।

হযরত ওমর (সাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একদিন নবী করীম (সাঃ) এর সাথে আমরা সবাই এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় হযরত জিব্রাইল (আঃ) উপস্থিত হয়ে নবী করীম (সাঃ)-এর সম্মুখে বসলেন, আমরা সকলে তাঁকে দেখতে পেলাম। অতঃপর জিব্রাইল (আঃ) নবী করীম (সাঃ)-এর সম্মুখে বসলে নবী কারীমকে (সাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ আমাকে বলে দেন ইসলাম কি? তখন হুজুর পাক (সাঃ) বললেন, ইসলাম হল কালেমা তাইয়্যেবা পাঠ করা, নামাজ পড়া, যাকাত দেয়া, রমজানে রোজা রাখা। আর যদি শক্তি সামর্থ থাকে, তবে হজ্ব করা।

হযরত জিব্রাইল (আঃ) এ কালাম শুনে বললেন, হে হযরত আপনি সত্য বলেছেন যে, ইসলামের এ পাঁচটিই রোকন বা স্তম্ভ। অতঃপর হযরত জিব্রাইল (আঃ) নবী করীম (সাঃ)-এর সঙ্গে অনেক ছওয়াল, জওয়াব করার পর চলে গেলেন। তারপর নবী করীম (সাঃ) ছাহাবাগণকে বললেন, এ ব্যক্তি জিব্রাইল (আঃ) তোমাদিগকে ইসলাম সম্বন্ধে শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে একজন প্রশ্নকারীর ন্যায় এসেছিলেন, উপরোক্ত হাদীসের মর্মার্থই কালেমা তাইয়্যেবাকে অন্যান্য রোকন বা স্তম্ভের ওপর স্থান দেয়া হয়েছে।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) নবী করীমে (সাঃ) হতে বর্ণনা করেন, একদিন হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহপাকের কাছে মুনাজাত করে বললেন, হে আমার মাবুদ, আমাকে এ রূপ একটি কালেমা বা এছমে আজম শিক্ষাদান করুন, যখন আপনাকে ডাকি তখন যেন কালেমার দ্বারাই ডাকতে পারি। তখন আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, হে মুছা বল তুমি ‘লা ইলাহা ইল্লাহল্লাহ এবং ইহার দ্বারা আমাকে ডাক। ইহা শুনে হযরত মুছা (আঃ) দ্বিতীয়বার আরজ করলেন, হে বারে খোদা ‘লাইলাহা ইল্লাহল্লাহ’ এরূপ একটি সাধারণ কালেমা, যা সমস্ত লোকেরাই বলে ডাকে, এর মধ্যে আমার কি বৈশিষ্ট্য আছে? হে খোদা! আমি তো এমন একটি খাছ কালেমা চাইতেছি, যা আমি ব্যতীত অন্য কেহ না জানে। তখন মাবুদের পক্ষ হতে জবাব আসল, হে মুছা তুমি এ কালেমাকে সাধারণ মনে করে, এর ইজ্জত করলে না, ইহা খাছ হতে খাছ একটি কালেমা, যদি সাত স্তর আসমানেও জমিন এক পাল্লাতে রাখা যায়, আর অন্য পাল্লাতে এ কালেমা শরীফকে রাখা হয়, তবে এ কালেমা শরীফের ওজন অনেক বেশি ভারী হবে। তখন মুছা (আঃ) চুপ হয়ে গেলেন। (নাসারী শরীফ)।

হযরত আবু আলী আপন মাছনাদে হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, যে গুনাহগার ব্যক্তি রাতে বা দিনের যে কোনো সময় লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করে, তখনই তার আমলনামা হতে যাবতীয় পাপ মোচন হয়ে যায়। যত পাপ তার আমলনামা হতে মোচন হয়ে গেছে, অনুরূপ পুণ্য তার আমলনামায় লেখা হয়, ইহার কারণ এই যে, যে ব্যক্তি ‘লা-ইলাহা ইল্লাহল্লাহ’ পাঠ করেছে, সে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত সমস্ত বাতেল মাবুদকে তাদের অস্তিত্ব হতে বিনাশ বা ধ্বংস করে দিয়েছে। এর কারণই তার সমস্ত পাপ মোচন হয়ে যায়, কেননা গুনাহ হল খায়েশ নফসানির কলঙ্ক স্বরূপ। সমস্ত বাতেল মাবুদকে ধ্বংস করার মাধ্যমে খায়েশ নফসানিকে ধ্বংস করা হল। আল্লাহ পাক তখন আপন মেহেরবাণীতে উক্ত বাতেল মাবুদকে অস্বীকার করার কারণে যে সমস্ত পাপ হয়েছিল, তা সমূলে বিনাশ করে বান্দাকে পাপ থেকে নিষ্পাপ করে পবিত্র করেন, আর আল্লাহ পাকের অস্তিত্ব ও একাত্ব স্বীকার করার কারণে তদস্থানে সে পরিমাণ নেকী করলেন কেননা যেখানে আতর বা মেঞ্জ অম্বর থাকে সেখানে সুবাস আপনা আপনি হয়ে থাকে। আর সেখান হতে আবর্জনা দূর করা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়।

আল্লামা বজ্জিজি আপন মাছনাদে হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সাঃ) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ পাকের আরশের সম্মুখে একটি নূরের স্তম্ভ আছে, যখন কোনো ব্যক্তি দুনিয়াতে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে থাকে তখন আপনা আপনি সে নূরের স্তম্ভটি কাঁপতে থাকে। তখন আল্লাহ পাক বলেন, হে স্তম্ভ চুপ কর, কেঁপো না। তখন স্তম্ভটি আরজ করবে, হে আল্লাহ পাক, যে পর্যন্ত তুমি কালেমা পাঠকারীকে মাফ না কর, সে পর্যন্ত আমি কি করে চুপ করব? তখন মাবুদের পক্ষ থেকে হুকুম হবে, আমি তাকে মাফ করে দিলাম। এ কথা শোনামাত্র স্তম্ভটি চুপ হয়ে যাবে।

এ পবিত্র কালেমা সম্পর্কে আল্লাহ পাক কোরানুল করীমে এরশাদ করেন কালেমা তাইয়্যেবার উদাহরণস্বরূপ যেমন একটি পবিত্র বৃক্ষ যার শিকড় জমিনের সঙ্গে সংযুক্ত আর উহার শাখা আকাশের দিকে তদ্রুপ কালেমা তাইয়্যেবা দুনিয়াতে আর উহার নূরের শাখাটি স্তম্ভ স্বরূপ সপ্ত আকাশের ওপর।

নাজুহাতুন্নাজায়ের তান বিহেফ কিহে আবু লায়েছ নামক গ্রন্থে কোনো এক ছাহাবী হতে বর্ণিত আছে যে, ‘যে ব্যক্তি একবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালেমা শরীফকে তাজিম সহকারে পাঠ করবে, আল্লাহপাক তার চার হাজার পাপ মাফ করে দেবেন। যদি তার চার হাজার পাপ না থাকে, তবে তার পরিবার বর্গের ও তার প্রতিবেশীর চার হাজার পাপ মাফ করে দেবেন।

তাফছিরে রুনুল বায়ন নামক কিতাবে বর্ণিত আছে যে, দাহিয়া কালবী একজন কাফের ছিল। দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার তার খুবই আগ্রহ ছিল এবং হুজুর পাক (সাঃ) অধিকাংশ সময় তার ইসলাম গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ পাকের দরবারে দোয়া করতেন, কেন না তার সঙ্গে তার আত্মীয় স্বজনও প্রায় সাতশ ছিল। এই একটি লোক মাত্র ইসলাম গ্রহণ করলে, সাতশ লোকও চির শান্তিময় ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে যায়। যাক অবশেষে হুজুর (সাঃ) এর দোয়া মঞ্জুর হল। একদিন আপনা আপনি হঠাৎ তার অন্তঃকরণে ইসলামের মহব্বত, সত্যতা ও অনুপ্রেরণা জাগ্রত হল এবং মুসলমান হওয়ার জন্য হুজুর (সাঃ) এর সমীপে আসতে লাগল। এদিকে হযরত জিব্রাইল (আঃ) হজুর (সাঃ) কে সুসংবাদ প্রদান করলেন যে, ‘হে নবী আল্লাহ পাক আপনার নিকট ছালাম প্রেরণ করে বলেছেন যে, দাহিয়া-কালবী আপনার খেদমতে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য আসছে। অল্পক্ষণের মধ্যেই দাহিয়া কালবী হুজুর সমীপে হাজির হল। হুজুর (সাঃ) তাকে দেখে আপন চাদর মোবারক নিজ স্কন্দ মোবারক হতে নামিয়ে তাকে বসবার জন্য জমিনের ওপর বিছিয়ে ছিলেন। ইসলাম ধর্মে বিধান আছে যে, যদি কোনো কওমের নেতৃস্থানীয় বা সম্মানিত কোনো লোক তোমাদের নিকট উপস্থিত হয়, তখন তার সম্মান কর। সুতরাং হুজুর (সাঃ) তার সম্মানার্থে আপনি চাদর মোবারক বসবার জন্য বিছিয়ে দিলেন। তারপর দাহিয়া-কালবী হুজুর (সাঃ) এর পূত-পবিত্র চরিত্র ও আপন শত্রুর প্রতি অমায়িক ব্যবহার দেখে অশ্রু বিসর্জন করতে করতে চাদর জমিন হতে তুলে চুমো দিয়ে চোখে লাগিয়ে মাথার ওপর রেখে অতি বিনয় ও নম্রতা সহকারে বলতে লাগলো, হে নবী আমাকে ইসলাম ধর্মের শর্ত সমূহে বলে দিন এবং কালেমা তৌহিদ শিক্ষা দিয়ে দীক্ষিত করুন। তখন নবী করীম (সাঃ) এরশাদ করলেন, হে দাহিয়া বল তুমি, ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ মোহাম্মদুর রাসুল্লাহ’। দহিয়া-কালবী কালেমা তাইয়্যেবা পাঠ করে কাঁদতে কাঁদতে অস্থির হয়ে যেতে লাগলেন। তখন নবী করীম (সাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন হে দাহিয়া বল তুমি কাঁদছ কেন? দাহিয়া কালবী উত্তর, হুজুর আমি বড় পাপ করেছি, আল্লাহ পাকের দরবারে একটু আরজ করুন, আমার পাপ মোচনের কি কোনো উপায় হতে পারে? যদি আমাকে আপনি হত্যা করে ফেলেন তাও আমি অম্লানবদনে শিরোধার্য করে নেবো। আর যদি আমার যাবতীয় ধন-সম্পদ আল্লাহ পাকের রাস্তায় বিলিয়ে দিতে হয় তাও দেব। তবুও যেন আমার পাপ মাফ হয়ে যায়। হুজুর (সাঃ) দাহিয়া কালবীর এরূপ অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, হে নবী আমি আমার কওমের সর্দার। আমি লজ্জায় কারণে ৭০জন মেয়ে জীবিত হত্যা করেছি। হে আল্লাহর নবী আমার এ পাপ কি মাফ হবে? হুজুর (সাঃ) দাহিয়ার এ কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে অঙ্গুলি দন্ত মোবারকে রাখলেন এবং তার জুলুমও অত্যাচারের প্রতি অবাক হয়ে পড়লেন, আর মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন, হায় এ হেন জঘণ্য পাপ কিরূপে মাফ হতে পারে? এ দিকে দাহিয়া হুজুরের সম্মুখে দাঁড়িয়ে ক্রন্দন করতেছে, অপরদিকে হঠাৎ জিব্রাইল (আঃ) হুজুর (সাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলেন, হে নবী (সাঃ) আল্লাহরাব্বুল আলামীন আপনার নিকট ছালাম প্রেরণ করেছেন, আপনি দাহিয়াকে বলে দেন যে, দাহিয়া লাইলাহা ইল্লাল্লাহ মোহাম্মদুর রাসুলুল্ল্যাহ পড়ার কারণে আল্লাহ পাক তার ৬০ বছরের মূর্তি পূজা ও কুফরী এবং ৬০ বছরের যাবতীয় পাপরাশি আর ৭০ জন নিস্পাপ মেয়েকে বিনা অপরাধে হত্যা করার যাবতীয় পাপ মার্জনা করে দিয়েছেন। অর্থাৎ পবিত্র ইসলাম ধর্মগ্রহণ করলে পূর্বেও যাবতীয় পাপ মাফ হয়ে যায়। আল্লাহ পাকের এ হুকুম মাত্র হুজুর (সাঃ) কাঁদতে কাঁদতে আকুল হয়ে ওঠলেন, উপস্থিত ছাহাবাগণও কাঁদতে লাগলেন, আর দাহিয়া কালবী তো ক্রন্দন করতে করতে বেহুশ হয়ে গেলেন। এমতাবস্থায় নবী করীম (সাঃ) এর পবিত্র কালেমা শরীফ পড়ে, তার সারা জীবনের মূর্তি পূজা, শিরক কুফর ও মেয়ে হত্যা ইত্যাদি যাবতীয় পাপ হতে মুক্তি পেয়ে গেল। আচ্ছা আমার উম্মতের মধ্যে যদি কোনো মোত্তাকী পরহেজগার জীবনব্যাপী এ কালেমা পাঠ করতে করতে মরে যায় তবে সে কেন তোমার ক্ষমা পাবে না? হে আল্লাহ নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি তোমার ক্ষমা পেয়ে থাকবে।

রায়হাকী হতে মাজালেছে মিনাও জাওয়াজের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, একজন কাফের বাদশাহ পবিত্র ইসলাম ধর্মের ভয়ানক শক্র ছিল। সে অনেক মুসলমানকে হত্যা করেছিল। ঘটনাক্রমে একবার মুসলমান সেনা তার ওপর জয়লাভ করে, জীবিতবস্থায় তাকে ধৃত করে নিয়ে আসলেন, সমস্ত মুসলমান একত্রিত হয়ে তাকে সাজা দেয়ার মানসে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হল যে, একটি তাম্র ডেকে তাকে রেখে মুখ ঝালাই করে নিচে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হোক। যেন আপন কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। এ রায় সাব্যস্ত হওয়ার পর উক্ত কাফের বাদশাহকে ডেগের মধ্যে রেখে মুখ ঝালাই করে বন্ধ করে দিল এবং নিচে আগুন জ্বালিয়ে ছিল। যখন ডেগটি উত্তপ্ত হয়ে ওই কাফেরকে দুঃসহ কষ্ট দিতে লাগল। তখন সে তার যাবতীয় দেবতাগণকে এ ভীষণ বিপদ থেকে রক্ষার জন্য ডাকতে লাগল, হে আমার প্রভু! আমি তোমাদের জন্যই শ’ শ’ মুসলমানের প্রাণ বিনাশ করেছি। আজ তোমরা আমার এ বিপদকালে সাহায্য কর। এ রূপে অশ্রু বিসর্জন করে বার বার বলতে লাগল। কিন্তু মাটি পাথরের দেবতা কোনোই উপকার করতে পারলো না। অবশেষে কাফের বাদশাহ দেবতাদের হতে বিমুখ হয়ে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে আত্মসমর্পন করে আপন মুখ উর্ধ্বে তুলে বলতে লাগল ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ মোহাম্মদুর রাসুলুল্ল্যাহ।’ এ পবিত্র কালেমা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ পাক তার ইসলাম কবুল করলেন। মহান আল্লাহ কোরানুল করীমের এরশাদ করেন, আল্লাহ ব্যতীত আর কে আছেন, যিনি দুঃখে কষ্টে জর্জরিত হয়ে আহাজারী করতে থাকে, তার বিপদের সময় তাকে সাহায্য করতে পারে। আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ নেই যিনি বিপদের সময় সাহায্য করতে পারে।

হযরত ইউসুফ (আঃ) অন্ধকার কূপে নিমজ্জিত হয়ে আল্লাহকে ডেকে কাছে পেয়েছেন। হযরত ইউনুস (আঃ) সমুদ্রের নিচে মাছের পেটের মধ্যে থেকে আল্লাহকে স্মরণ করে নিকটে পেয়েছিলেন। হযরত আইউব (আঃ) বহুদিন অসহ্য রোগে ভুগেও আল্লাহকে কাছে পেয়েছেন। অর্থাৎ সেখানে যে বিপদে আল্লাহকে ডেকেছেন, সে সেখানেও তাঁকে পেয়েছেন।

সুতরাং ওই কাফের বাদশাহ ও কালেমা শরীফ পাঠ করে ডাকার সাথে সাথে পাহাড়ের দিক হতে প্রবলবেগে ঝড় ঝঞ্ছা আসতে লাগলো। বৃষ্টির পানিতে অগ্নি নিভে গেল। আর বাতাসে ডেগটিকে শূন্যে তুলে এক কাফেরের দেশে নিয়ে গেল। সে দেশে একটি লোকও আল্লাহ বলার ছিল না। যখন ডেগটি আকাশ হতে নিচে পড়তে লাগল, তখন লোকেরা দেখে আশ্চান্বিত হয়ে গেল। ব্যাপার কি? অবশেষে পতিত ডেগটি খুলে দেখতে পেল, এক ব্যক্তি একেবারেই নিরাপত্তাবস্থায় ডেগের মধ্যে বসে কালেমা তাই য়্যেবা পাঠে মগ্ন রয়েছে। তখন উপস্থিত লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করলো, আপনি কে, কিভাবে এ ডেগের মধ্যে আবদ্ধ হয়েছেন এবং কিভাবে এখন এসেছেন। বাদশাহ বলল, আমি একজন কাফের বাদশাহ ছিলাম। মুসলমানকে হত্যা করা বড়ই পুণ্যের কাজ মনে করে বহু মুসলমানকে হত্যা করেছি। ঘটনাক্রমে মুসলমানরা আমাকে ধৃত করে মারার উদ্দেশ্যে ডেগের মধ্যে রেখে মুখ ঝালিয়ে প্রজ্বলিত অগ্নিমধ্যে ফেলে দেয়। এ সময় আমি আমার উপাস্য দেব-দেবীর নিকট সাহায্য চাই। কিন্তু তারা কোনো উপকার করেনি বিধায় বিশ্ব স্রষ্টা ত্রাণকর্তা পালনকর্তা ও মুক্তিদাতার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলাম। তিনিই আমাকে এ অবস্থায় এখানে পৌঁছে দিয়েছেন। উপস্থিত লোকজন ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিতে লাগল। অল্প দিনের মধ্যেই দেশের সমস্ত লোক মুসলমান হয়ে গেল।

হায়াতুল কুলুব নামক কিতাবে বর্ণিত আছে, একদিন আল্লাহ পাক নবী করীম (সাঃ) কে সংবাদ দিলেন যে, ‘হে নবী আপনার অমুক আনছার ছাহাবীর মৃত্যু আগত প্রায়। এ সংবাদ শ্রবণমাত্র নবী (সাঃ) অস্থির হয়ে সেখানে যেয়ে দেখতে পান যে বাস্তবিকই তার মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে। তখন নবী (সাঃ) উক্ত ছাহাবীকে বললেন পড় কালেমা ‘লা-ইলাহাইল্লাল্লাহ মোহাম্মদুর রাসুলুল্ল্যাহ’ । ছাহাবী বার বার চেষ্টা করেও পড়তে পারলেন না, অবশেষে অনন্যোপায় হয়ে আপন আঙ্গুল উর্ধ্বে তুলে ইঙ্গিতে বললেন, হুজুর (সাঃ) তার অবস্থা দেখে হেসে উঠলেন। উপস্থিত ছাহাবীগণ আরজ করলেন ইয়া রাসুলুল্ল্যাহ আমাদের প্রাণ আপনার পা মোবারকে উৎসর্গ হোক, আনছারীর এ দারুণ বিপদের সময় আপনার হাস্য করার কারণ কি জানতে বাসনা। তখন হুজুর (সাঃ) বললেন, আমি যখন তাকে কালেমা শরীফ পাঠ করাতে ছিলাম, তখন সে আপন মুখে কালেমা শরীফ পাঠ করে উপস্থিত লোকগণকে সাক্ষী রাখতে না পারায় তার আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে আকাশের মালিক আল্লাহকে তার সাক্ষী করে রাখলো যখন সে আকাশের দিকে আপন অঙ্গুলী উত্তোলন করল, তখনই আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে সংবাদ হয়ে গেল, হে ফেরেস্তারা তোমারা দেখ, যখন আমার বান্দার মুখবন্ধ হয়ে গেল, তখন সে আপন মুখে কালেমা শরীফ পড়ে কাকে সাক্ষী করাতে না পেরে সে আমার প্রতি দৃষ্টি করে আপন অঙ্গুলী দ্বারা আমাকে তার কালেমার সাক্ষী করে রাখল, হে ফেরেস্তারা আমিও তোমাদেরকে সাক্ষী করে রাখলাম যে, আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম। তখন হুজুর (সাঃ) বললেন, হে আমার ছহাবাবাগণ আন্ছারার এহেন অবস্থা দেখতে পেয়ে হেসেছিলাম। এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই।

মোনতাযাবুন্না কায়েছ নামক কিতাবে বর্ণিত আছে যে, হযরত মুসা (আঃ) এর যামানায় এক ব্যক্তি ৪৮০ বছর পর্যন্ত কুফুরী করতে ছিল। একদিন আল্লাহ পাকের রহমতে ঈমানের প্রতি তার মন আকৃষ্ট হল, তখন সে আল্লাহর নবী হযরত মুসা (আঃ) এর খেদমতে হাজির হয়ে কালেমা তাইয়্যেবা পড়ে পবিত্র ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলেন।
হযরত জিব্রাইল (আঃ) হযরত মুসা (আঃ) কে সুসংবাদ প্রদান করলেন, হে মুসা (আঃ) এ ব্যক্তি একবার কালেমা শরীফ পড়ার কারণে আল্লাহ পাক ৪৮০ বছরের পাপরাশি মাফ করে দিয়েছেন।

হে মোমিন ভাইগণ, এবার দেখুন কালেমা তাইয়্যেবার গুরুত্ব ও ফজিলত। অতএব আমরা যাতে প্রতিদিন উক্ত কালেমা পাঠ করতে পারি, তার প্রতি মনোযোগ নিবন্ধ করি। পরম করুণাময় ও মহাদয়ালু আল্লাহ আমাদের সবাইকে কালেমা শরীফ পাঠ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
Share:

Wednesday, April 27, 2016

বৃহত্তর সিলেট মনোমুগ্ধকর স্থান

হযরত শাহজালালের পূণ্যভূমি আর দুটিপাতা একটি কুড়ির দেশ সিলেটের নান্দনিক সৌন্দর্যে সারাবিশ্ব বিমুগ্ধ। সিলেট শহরের মধ্যখানে অবস্থিত হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার এবং সিলেট শহরের উপকন্ঠে হযরত শাহপরাণ (র.) এর মাজার অবস্থিত। এছাড়া বিভিন্ন চা বাগান, জাফলং, মাধবকুন্ডসহ সিলেটের বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন সিলেটে ভিড় করেন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে বৃহত্তর সিলেটের দর্শনীয় ও পবিত্র স্থানগুলো নানা স্থানের মানুষের সমাগমে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। বর্তমান সিলেটের যেসব স্থান পর্যটকদের আকর্ষণ করে সেগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো;

হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার
দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নিকট হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার দর্শন ও জিয়ারত সিলেট ভ্রমণের প্রধান অংশ হিসেবে বিবেচিত।

সিলেটের কোট পয়েন্ট থেকে আম্বরখানা যাবার পথে চৌহার্ট পয়েন্ট পেরিয়ে কয়েকশ গজ দূর এগিয়ে গেলেই বাঁ পাশেই দেখা যাবে হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর দরগাহের প্রবেশ পথ। আধুনিক ডিজাইনে কলেমা লেখা খচিত এই গেট দিয়ে প্রবেশ করে পশ্চিম দিকে একটুখানি এগিয়ে গেলে আরো একটি লক্ষ্য করা যাবে। সেই গেট পেরিয়ে প্রবেশ করলেই মসজিদের পাশ দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠে হাতের ডান পাশেই গিলাপ মোড়ানো বিখ্যাত পীর হযরত শাহজালাল (র.)-এর পবিত্র মাজার।

১২৭১ খ্রিস্টাব্দে ইয়েমেনে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান পীর। তাঁর পিতা মোহাম্মদ বিন ইব্রাহিম কোরেশী এবং মাতা সৈয়দা হাসিনা ফাতিমা বিনতে জালালুদ্দিন সুরুখ বোখারী উভয়েই ছিলেন কুরাইশ বংশীয়। কিন্তু হযরত শাহজালাল (র.) ছোট বেলাতেই পিতা-মাতা হারালে তিনি তার মামা মস্তবড় আলেম সৈয়দ আহমদ কবীরের কাছেই দ্বীনি তালিম হাসিল করেন এবং ইলমে মারেফাতের ছবক নেন। অল্পকালের মধ্যেই তিনি কামালিয়াত হাসিল করেন এবং কামেল ওলি হয়ে যান। ৩০ বছর বয়সে তিনি স্বপ্নযোগে হিন্দুস্থানে ইসলাম প্রচারে আদিষ্ট হন। বিষয়টি মামাকে জানালে তিনি অনুমতি দেন। সেই সাথে তাঁকে একমুঠো মাটি দিয়ে বলেন যে, স্বাদে বর্ণে ও গন্ধে এই মাটির তুল্য মাটি যেখানে পাবে সেখানে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করবে। পরবর্তীতে হযরত শাহজালাল (র.) দলবল নিয়ে বিভিন্ন শহর বন্দর ও দেশ পেরিয়ে এই অঞ্চলে এসে পৌঁছেন। অতঃপর তখনকার অত্যাচারী রাজা গৌড় গোবিন্দকে বিনা রক্তপাতে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে এই অঞ্চলের মাটির সাথে তাঁর আনা মাটি মিলে গেলে এখানেই হযরত শাহজালাল (র.) তাঁর দলবল নিয়ে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে আস্তানা গড়ে তুলেন। তাই হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার সারা বিশ্বের মুসলমানদের নিকট একটি পবিত্র স্থান। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সিলেটে আসলে হযরত শাহজালালের মাজার দর্শন করে তৃপ্তি ও আনন্দ লাভ করেন। অবশ্য অন্য ধর্মাবলম্বীরাও এই পবিত্র মাজার দর্শনে আসেন।

শ্রী চৈতন্যের বাড়ি
সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার প্রসিদ্ধ স্থান ঢাকা দক্ষিণ। এই ঢাকা দক্ষিণ বাজারের সনি্নকটে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে শ্রীমান মহা প্রভুর পুণ্যধাম, কলি যুগের অবতার, শ্রী চৈতন্য মহা প্রভুর বাড়ি। কথিত আছে তিনি নবদ্বীপে জন্মলাভ করেছিলেন এবং সন্যাস গ্রহণের পর এই পিতৃধামে এসেছিলেন। ঢাকা দক্ষিণের প্রাচীন প্রস্তর কারুকার্যময় পাহাড়িয়া টিলাভূমির উপর নির্মিত মন্দির ও বিগ্রহ এবং সর্বোপরি তাঁর দাদি বাড়ির প্রাকৃতিক পরিবেশ অতিশয় নান্দনিক বলে দর্শনার্থীদের মন ভরিয়ে দেয়। এই স্থানে প্রতি বছর আষাঢ় ও চৈত্র মাসে মেলা বসে। এই মেলায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় হস্তশিল্প সামগ্রী ও বিভিন্ন ফলের সমাহার হয়। মেলাকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ তৈরি হয় এবং বহুলোকের সমাগম হয়। সারা বছর বিভিন্ন সময় দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায় এই পীঠস্থান দর্শন করতে আসেন।

জাফলং
সিলেটের দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে জনপ্রিয় স্থানটির নাম হচ্ছে জাফলং। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে জৈন্তা থানার অর্ন্তগত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে এই দর্শনীয় স্থানটি অবস্থিত। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলধারা, ছোটবড় সাদা কালোসহ নানা বর্ণের পাথর, অতিদূরে মেঘালয় রাজ্যের সবুজ প্রকৃতিঘেরা পাহাড়রাজ্য অবলোকন করে চোখ জুড়িয়ে যায়। জাফলংয়ে রয়েছে আদিবাসী খাসিয়াপুজ্ঞী। যেখানে খাসিয়া উপজাতিরা বাস করে। তাদের জীবনযাত্রাও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তাদের উৎপাদিত পান, সমগ্র সিলেটবাসীর নিকট খুবই প্রিয়। জাফলংয়ের আশপাশে রয়েছে কয়েকটি চা বাগান। চা গাছের সবুজ সমারোহ সহজেই পর্যটকদের হৃদয় আকর্ষণ করে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও জাফলং একটি সমৃদ্ধশালী স্থান। জাফলংয়ের পাথর ও বালু খুবই মূল্যবান। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পাথর ও বালু দেশের বিভিন্ন জেলায়-উপজেলায় ট্রাক ও নৌকার মাধ্যমে এখান থেকে চলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এদেশের জন্য জাফলং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিগণিত।

সারিনদী
সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার আরেকটি উল্লেখযোগ্য নৈসর্গিক স্থান হচ্ছে জৈন্তা থানার অন্তর্গত সারিনদী। এই নদীটিকে আবার স্থানীয় জনগণ লালাখাল বলেও সম্বোধন করে থাকেন। সিলেট থেকে জাফলং যাবার পথে দরবস্ত বাজার পেরুলে সারিনদীর দর্শন লাভ করা যায়। সারিঘাট নামক স্থানে নেমে নৌকা অথবা স্পিডবোর্ড চড়ে এই নদীর নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের বাকি মৌসুম বা সময় এই নদীর জল অদ্ভুদ রকম স্বচ্ছ থাকে। এই নদীর স্বচ্ছ জলধারা ভেদ করে নদীর তলদেশের ক্ষুদ্র বালুকণা দেখা যায়। সেই সাথে ছোট ছোট নানা মাছের জীবন্ত ছোটাছুটি মন ভরিয়ে দেয়। মেঘালয় রাজ্যের উঁচু পাহাড় থেকে সৃষ্ট এই নদীটি জৈন্তা সীমান্ত দিয়ে বাঘছড়া ও লালাখাল চা বাগানের পাশ দিয়ে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করেছে। এক সময় এই নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেতো। এই নদীর কালো বাউস এই অঞ্চলের মানুষের নিকট ইলিশ মাছের স্বাদ দিত। কিন্তু ভারতের উজানে ছোট-বড় নানা রকম বাঁধ ও নদীর পার্শ্ববর্তী স্থানে কলকারখানা স্থাপন করায় সারিনদীটির সম্পদ ও সৌন্দর্য হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। তারপরেও এই নদীর স্বচ্ছ জলরাশি, স্বল্পদূরে মেঘালয় রাজ্যের ছোট বড় সবুজ পাহাড় পর্যটকদের চোখ জুড়িয়ে দেয়। এছাড়া সারিনদীর ধারে গড়ে ওঠা চা-বাগান পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ করে। সারিনদীর অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে অনেকখানি। এই নদীর উত্তোলিত বালু ও পাথর অত্যন্ত মূল্যবান। তা ছাড়া এই নদীর পাশ্র্বে বিভিন্ন জায়গায় আধিবাসী খাসিয়াদের নিবাস রয়েছে। এ কথায় সারিনদীর নান্দনিক সৌন্দর্য আমাদের মন ভরিয়ে দেয়।

টাঙ্গুয়ার হাওর
বিল ঝিল নদী নালা হাওড় বাঁওড় ইত্যাদি সৌন্দর্যের লীলাভূমি বৃহত্তর সিলেটের সুনামগজ্ঞ জেলায় রয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণ করার প্রিয় স্থান টাঙ্গুয়ার হাওড়। হাওড় বিলাসী পর্যটকদের কাছে টাঙ্গুয়ার হাওর নানা কারণে প্রিয়। দুচোখ ভরে নানা সৌন্দর্য দেখার মতো ঐশ্বর্য টাঙ্গুয়ার হাওরে রয়েছে। শীতের মৌসুমে লাখ লাখ অতিথি পাখিদের কলতানে এই হাওড় অন্যরকম নান্দনিক সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। টাঙ্গুয়ার হাওরের মধ্যদিয়ে বয়ে গেছে অসংখ্য ছোট বড় খাল নদী নালা ছড়া। বর্ষাকালে এই হাওর বিশাল রূপ ধারণ করে। জলের বিশালতা আর হাজার হাজার ঢেউয়ের অপরূপ দৃশ্যাবলি পর্যটকদের মুগ্ধ করে, মোহাচ্ছন্ন করে রাখে। টাঙ্গুয়ার হাওড়ের চারপাশে রয়েছে অসংখ্য গ্রাম। এই হাওড়ের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। এই হাওড় থেকে প্রতি বছর মূল্যবান মাছ ধৃত হয় এবং রফতানি হয়। প্রায় ২শ প্রজাতির মাছ এই হাওড়ে পাওয়া যায়। মাছের মধ্যে চিতল, আলুনি, মহাশোল, আইড়, দেশি পাঙ্গাস, মাগুর, শিং, রিঠা, বাছা, গুতুম প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। আবার এই হাওড়ে মূল্যবান নানা প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে পানি ফল, নল খাগড়া, বন তুলসী, শাপলা, সিঙরা, হিজল, দুর্বা, পুটকীবন, চাইলা, কেশুর, আগরা অন্যতম। বর্ষাকালে এই হাওড়ের আয়তন বিশ হাজার একরের উপরে হয়। হাওড়টির গভীরতাও অনেক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হাওড়কে পর্যটন শিল্পের আওতায় আনার জন্যে ঘোষণা দিয়েছেন।

হাকালুকি হাওর
ভ্রমণ পিপাসুদের নিকট এই হাওরটি খুবই জনপ্রিয় বা সুপরিচিত একটি জায়গা। সারাবিশ্বজুড়ে এই হাওরটির পরিচিতি রয়েছে। কয়েকটি উপজেলা নিয়ে এই হাওরটির বিস্মৃতি। সিলেট জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব এবং মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব ও বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণে এই বিশাল (৮-এর পৃষ্ঠায় দেখুন) হাওরটির অবস্থান। একটি পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে এই হাওড়ের ৪০ শতাংশ বড়লেখায়, ৩০ শতাংশ কুলাউড়ায়, ১৫ শতাংশ ফেঞ্চুগঞ্জে, ১০ শতাংশ গোলাপগঞ্জে এবং ৫ শতাংশ বিয়ানীবাজার থানার মধ্যে অবস্থিত। শীতকালে লাখ লাখ অতিথি পাখিদের আগমনে এই হাওড়টির নৈসর্গিক সৌন্দর্য অনেকগুণ বেড়ে যায়। এ সময় হাওড় আর পাখি দেখার জন্যে দেশ বিদেশের পর্যটকরা এখানে এসে ভিড় করেন। তবে শীতের যে সি্নগ্ধ পরিবেশ এই হাওড়ে বিরাজ করে তা বর্ষা মৌসুমে লক্ষ্য করা যায় না। তখন হাওড়জুড়ে থই থই জল আর জলের বাতাস কাঁপানো ঢেউ অন্য রকম সৌন্দর্য নিয়ে উপস্থিত হয়। এ সময় চাঁদনী রাতের জ্যোৎস্না আলোয় নৌকা ভ্রমণ দারুণ আনন্দ দেয়। এই হাওড়ে নানা প্রজাতির মাছ ও নানা প্রজাতির ছোট বড় লতাপাতার বৃক্ষরাজি রয়েছে।

মাধবকুন্ড জল প্রপাত
বৃহত্তর সিলেটের মৌলভী বাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে মাধবকুন্ড নামের এই জল প্রপাতটি। এটি বাংলাদেশের সুপরিচিত একটি জল প্রপাত। যারা সিলেট ভ্রমণ করার বাসনা নিয়ে আসেন তাদের নিকট বিশেষ করে জাফলং এবং মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি তালিকায় রাখেন। প্রায় ২৭০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে এই জল প্রপাতটি নেমে এসেছে। শীতকালে এর পানি প্রবাহ থাকে সীমিত। তবে বর্ষা মৌসুমে জলের ধারাটি থাকে নিয়মিত। যখন উপর থেকে জলের ধারা নিচে নেমে আসে তখন দেখতে অপুর্ব লাগে। মাধবকুন্ডের আশপাশে খাসিয়া আদিবাসীদের পল্লী রয়েছে। মাধবকুন্ডকে দেশের পর্যটন শিল্পের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। মাধবকুন্ডের পাশে হোটেল ও মোটেল রয়েছে। মাধবকুন্ড সিলেট তথা দেশের একটি প্রাচীন প্রাকৃতিক ঐতিহ্য।

আলী আমজাদের ঘড়িঘর
সিলেট জেলা সাক্রিট হাউস ও ক্বীন ব্রিজের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে সিলেটের ঐতিহ্য বহু পুরনো কালের আলী আমজাদেও ঘড়িঘর। কথিত আছে পৃথি্বম পাশার বিখ্যাত জমিদার আলী আমজাদ দিল্লীর চাঁদনীচকে শাহজাদী জাহানারার স্থাপিত ঘড়ি দেখে তিনি মুগ্ধ হন। সেই মুগ্ধতা থেকেই এই জমিদারের মনে অনুরূপ একটি ঘড়ি সিলেট শহরে গড়ে তুলার ইচ্ছা তার মনে জাগ্রত হয় এবং সেই ইচ্ছা থেকেই জমিদার আলী আমজাদ সিলেটের ক্বীন ব্রিজের পাশে সুরমা নদীর তীরবর্তী স্থানে চাঁদনী ঘাটের পাশে এই ঘড়িঘর নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে তাঁর এই ঘড়িঘর আলী আমজাদের ঘড়িঘর হিসেবে সবার নিকট পরিচিতি লাভ করে। এই শৈল্পিক ও ঐতিহ্যবাহী ঘড়িঘরটি দর্শনলাভের জন্যও প্রতিদিন অনেকে আসেন এবং আলী আমজাদের ঘড়িঘর দেখে তৃপ্তি লাভ করেন।


রাতারগুল
সিলেট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে উত্তর-পূর্বে গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত রাতারগুল একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পর্যটকদের নিকট পরিচিত হয়ে উঠেছে। বছর দুয়েক আগে এই স্থানটি নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা লেখালেখি করলে স্থানটি সবার নজরে আসে। মূলত এটি একটি ছোট বিল। বর্ষা ঋতুর অবিরাম বৃষ্টি জল আর ভারত সীমান্তের পাহাড়ি ঢল এই বিলটিকে জলে পরিপূর্ণ করে দিলে এই বিলটি অনেকটা সুন্দরবনের রূপ নেয়। জল আর নানা প্রকার গাছ-গাছালি এই বিলটিকে দিয়েছে এমন এক সি্নগ্ধরূপ যা পর্যটকদের চক্ষু ও মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়। রাতারগুল বিলটির স্থানীয় নাম খইয়ার বিল। বর্তমানে বিলটি পর্যটকদের নিকট মিনি সুন্দরবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

হযরত শাহ পরাণ (র.)
মাজারভক্ত মানুষের কাছে হযরত শাহ পরাণ (র.) একটি প্রিয় নাম। যারা পূণ্যভূমি হযরত শাহজালালের মাজার জিয়ারত করতে আসেন তারা এই মহান দরবেশের মাজারও দর্শন লাভ করতে ছুটে যান সিলেটের অদূরে খাদিম নগর স্থানে এবং এই মহান দরবেশের মাজার জিয়ারত করে তারা মানসিক তৃপ্তি লাভ করেন। হযরত শাহ পরাণ (র.) এর মাতা ছিলেন হযরত শাহ জালাল (র.) এর সহোদরা বোন। তাঁর আদিপুরুষগণ বোখারার অধিবাসী ছিলেন। হযরত শাহ পরাণ (র.) এর পিতাও একজন উঁচুমাপের বোযর্গ ছিলেন। হযরত শাহজালাল (র.) যখন হিন্দুস্থানে আসার জন্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তিনিও তাঁর মামার সফর সঙ্গী হন।

উল্লেখিত এসব দর্শনীয় স্থান ছাড়াও বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন্ জেলা উপজেলায় আরো অসংখ্য দর্শনীয় ও পবিত্র স্থান যেমন; মাধবপুর লেক, পাথারিয়া পাহাড়, জৈন্তাপুর রাজবাড়ি, লাউয়া ছড়া ফরেস্ট, পান থুমাই প্রভৃতি রয়েছ্। অবশ্য নতুন নতুন দর্শনীয় প্রাকৃতিক স্থান আরো নানা জায়গায় রয়েছে এগুলো যদি ঠিক মতো সাধারণ পর্যটক বা ভ্রমণ পিপাসু মানুষের নিকট উপস্থাপন করা যায় তবে সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে ঐতিহ্য রয়েছে তা আরো প্রসারিত হবে বলে মনে করি। হাওরটির অবস্থান। একটি পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে এই হাওড়ের ৪০ শতাংশ বড়লেখায়, ৩০ শতাংশ কুলাউড়ায়, ১৫ শতাংশ ফেঞ্চুগঞ্জে, ১০ শতাংশ গোলাপগঞ্জে এবং ৫ শতাংশ বিয়ানীবাজার থানার মধ্যে অবস্থিত। শীতকালে লাখ লাখ অতিথি পাখিদের আগমনে এই হাওড়টির নৈসর্গিক সৌন্দর্য অনেকগুণ বেড়ে যায়। এ সময় হাওড় আর পাখি দেখার জন্যে দেশ বিদেশের পর্যটকরা এখানে এসে ভিড় করেন। তবে শীতের যে সি্নগ্ধ পরিবেশ এই হাওড়ে বিরাজ করে তা বর্ষা মৌসুমে লক্ষ্য করা যায় না। তখন হাওড়জুড়ে থই থই জল আর জলের বাতাস কাঁপানো ঢেউ অন্য রকম সৌন্দর্য নিয়ে উপস্থিত হয়। এ সময় চাঁদনী রাতের জ্যোৎস্না আলোয় নৌকা ভ্রমণ দারুণ আনন্দ দেয়। এই হাওড়ে নানা প্রজাতির মাছ ও নানা প্রজাতির ছোট বড় লতাপাতার বৃক্ষরাজি রয়েছে।
Share:

Thursday, April 14, 2016

পুরুষের যে গুণটিকে চেহারার চেয়েও গুরুত্ব দেয় নারী

নারী কিংবা পুরুষ উভয়েরই কাউকে পছন্দ করার ক্ষেত্রে কিছু নিজস্ব রীতি রয়েছে। কাউকে পছন্দ করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো নারী গুরুত্ব দেয়, তা নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে এমন কিছু বিষয়, যা আগে জানা যায়নি। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট।

এ গবেষণার জন্য নারীদের বিভিন্ন ধরনের পুরুষের ছবি দেখানো হয় এবং তা থেকে কাদের ভালো লাগে তা জানাতে বলা হয়। তাদের ছবির পেছনের কাহিনী ছিল মূল কৌশল। বিভিন্ন ছবিতে তুলে ধরা হয় তাদের কেউ গৃহহীন মানুষকে সাহায্য করছে কিংবা পানি থেকে শিশুকে উদ্ধার করছে।

বিভিন্ন ধরনের পুরুষের ছবি দেখিয়ে তা থেকে নারীদের দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গী হিসেবে কাউকে বেছে নিতে বলা হয়। এতে দেখা যায়, নারীরা কল্যাণ কাজে নিয়োজিত পুরুষদের পছন্দ করে।

এ গবেষণায় আরেকটি বিষয় ছিল চেহারা কিংবা শারীরিকভাবে আকর্ষণীয় পুরুষের সঙ্গে গুণের তুলনা করা। আদর্শ মানুষ অবশ্য শারীরিকভাবে আকর্ষণীয় এবং গুণবান উভয়ই হতে পারে। কিন্তু নারীরা কোন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়, তা দেখাও ছিল গবেষকদের উদ্দেশ্য। এতে দেখা যায়, শারীরিক আকর্ষণের তুলনায় গুণ নারীরা শেষ পর্যন্ত বেছে নেয়। এক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


তবে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক নয় বরং শুধু সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছা থাকলে তা আকর্ষণীয় পুরুষদের সামান্য ওপরে রেখেছে। তবে উভয় বিষয় বিবেচনা করলে তা কল্যাণ কাজে নিয়োজিত বা পরহিতকর পুরুষদেরই সবচেয়ে আকর্ষণীয় রূপে তুলে ধরে।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ইভোলিউশনারি সাইকোলজি জার্নালে।
Share:

বলতে পারবেন, সব থেকে বেশি ফেসবুক ব্যবহার করে কারা?

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : ফেসবুকের যাত্রা আজ থেকে ১২ বছর আগে। অর্থাৎ ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করে ফেসবুক। সময়ের ব্যবধানে আজ এই ফেসবুক পুরো বিশ্বের মধ্যে অন্যতম একটি যোগাযোগের মাধ্যম।

সারা বিশ্বে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। আমরা মনে করি ফেসবুক প্রধানত বেশি জনপ্রিয় টিনএজার বা কমবয়সী ছেলেমেয়েদের কাছে। কিন্তু একটা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে এই ধারণা ভুল। জানেন কাদের কাছে বেশি জনপ্রিয় ফেসবুক?

স্কুল কলেজের পড়ুয়া, কিংবা চাকরিজীবী। আজ প্রত্যেকের হাতে হাতেই ফেসবুক। শুধু ব্যবহারের পদ্ধতিটা আলাদা। কেউ ফেসবুককে আড্ডা

মারা বা শুধুই এনজয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। আবার কেউ কেউ এর মাধ্যমে কাজের পাশাপাশি চেনা পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগটাও বজায় রেখে যায়। তাই ফেসবুক এক হলেও এর ব্যবহার ভিন্ন।

সম্প্রতি ফেসবুকের ব্যবহার নিয়ে সমীক্ষা করা হয়। সেই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নতুন প্রজন্ম বা টিনএজারদের থেকে বয়ষ্ক মানুষেরা বেশি ফেসবুক ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে তারা একাকিত্ব দূর করেন। সমবয়সীদের সঙ্গে কথোপকথন করতে পারেন। যারা বাড়ি থেকে বিশেষ বেরোতে পারেন না, তারা এই ফেসবুকের মাধ্যমে সমাজের খুঁটিনাটি খবর রাখেন।

আসলে বয়স বেশি হয়ে গেলে চারপাশের পরিধিটাও অনেক ছোট হয়ে যায়। তখন কথা বলার মতো বিশেষ কাউকে পাশে পাওয়া যায় না। বাড়ির লোকগুলোও ব্যস্ত থাকে নিজেদের কাজে। সেই একাকিত্বটাকেই ঘোচাতে প্রবীনরা বেশি অ্যাকটিভ ফেসবুকে। ২০১৩ সালের সমীক্ষায় ফেসবুকে প্রবীনদের ব্যবহারের সংখ্যাটা ছিল ২৭ শতাংশ।

এখন ৬৫ বছরের উর্ধ্বের ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। এর থেকেই বোঝা যায় ফেসবুক শুধুমাত্র আধুনিক প্রজন্মের কাছেই জনপ্রিয় নয়। এর জনপ্রিয়তার অন্যতম দাবীদার প্রবীনরাও।
Share:

Thursday, February 25, 2016

আমাদের প্রাণ আছে পোশাক নাই আর ওদের প্রাণ নাই পোশাক আছে ।



এক্সক্লুসিভ: আমার নাম, আমার বাড়ি কোথায় বা কে আমার বাবা-মা আমি কিছুই জানি না । আমাকে মানুষ একএক সময় এক এক নামে ডাকে আমায় । আমার বিভিন্ন নাম আর আমার খুব ভাল লাগে । আপনিও আমাকে যে কোন নামে ডাকতে পারেন । বললো আমার দেওয়া নাম (রাসেদ) নামের ছেলেটা । ওর সাথে দেখা আমার রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ।

ভার্সিটি থেকে ক্লাশ শেষ করে নিউমার্কেটের দিকে যাচ্ছি কিছু বই কেনার জন্য । হঠাৎ দেখা হলো রাসেদের সাথে । রাসেদ আমাকে বললো ভাইয়া কোথায় যাও, আমি তোমার সাথে যাবো । আমি বলাম আমি নিউমার্কেট যাবো কিছু বই কিনতে হবে । ও বললো চলো আমিও তোমার সাথে যাবো।আমি বললাম তোর আমার সাথে যাওয়ার দরকার নেই । কিন্তু ও আমার কথা শুনলো না । ও আমার পিছু পিছু চলে আসলো । আমি ভাবলাম কিছূ কিনে দিলে চলে যাবে । তাই আমি ওকে মুড়ি কিনে দিলাম আর বললাম এবার খেতে খেতে চলে যা । ও চলে গেলো আর আমি বইয়ের দোকানে চলে গেলাম ।

কিছু খন পর আমি বই কিনে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম । হঠাৎ চোখে পড়লো রাস্তার পাশে একটি কাপরের দোকানে সামনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে একটা ছেলে কি যেন দেখছে । ছেলেটার গায়ে ছিল না জামা আর হাতে ছিলো একটি কাগজ টোকানোর ব্যাগ ।

আমি কাছে গিয়া দেখলাম সেই ছেলেটা আর আমি বললাম রাসেদ তুই এখানে কেনো । তখন রাসেদ বললো দেখো ভাইয় আমার শরীরে প্রান আছে অথচ আমার শরীরে বস্ত্র নেই,এর শরীরে প্রান নেই অথচ এর শরীরে দামী পোশাক ।এ কেমন নিয়তি ।

ওর কথা শুনে আমার চোখে জল এসে গেলো আর ভাবলাম যে ওতো ঠিক কথা বলেছে । আমাদের একটু সময় হয় না এই সব মানুষের পাশে এসে সাহায্যের হাতটা বাড়িয়ে দিতে । এই পৃথিবীটা অনেক নিষ্ঠুর পৃথিবী । কারন যাকে দেয় তাকে বেশি করে দেয় আর যাকে দেয় না তাকে কিছুই দেয় না । -প্রদিপ বিশ্বাস
Share:

Sunday, February 21, 2016

আমাদের অস্তিত্বে একুশের চেতনা

অমর একুশে

একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল মহান ভাষা আন্দোলনের একটি স্মরণীয় দিন হিসেবেই পালিত হয় না, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মতো একই মর্যাদার ভিত্তিতে পালিত হয়ে আসছে। এখানেই একুশে ফেব্রুয়ারির বিশেষ স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল এবং শুরু হয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধ। তাই ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ১৬ ডিসেম্বর আমরা দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। অতএব ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্বাধীনতা অর্জনের চরম দিনটিকে অথবা বিপ্লব সফল হওয়ার দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি কেন ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো একই ধরনের জাতীয় মর্যাদা নিয়ে পালিত হয়?

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ছাত্র আন্দোলন আমাদের দেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক বটে, যা তখনকার রাজনীতির ধারাকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তার পরও বড় বড়, তীব্রতর আন্দোলন হয়েছে। বড় বড় অভ্যুত্থানও হয়েছে। ইতিহাসের সেসব দিন আমরা শ্রদ্ধাভরে, গর্বভরে স্মরণ করলেও একমাত্র একুশে ফেব্রুয়ারি কেন বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে? একুশে ফেব্রুয়ারির ছাত্র আন্দোলনকে শুধু স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে নিছক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটা পর্যায় মনে করলে ভুল বোঝা হবে। সামগ্রিকতায় একুশকে দেখা হবে না। শুধু ভাষার জন্য দাবিভিত্তিক আন্দোলন মনে করলেও খণ্ডিত করে দেখা হবে। অবশ্যই এটা ছিল গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অংশ। অবশ্যই তা ছিল ভাষার জন্য সংগ্রাম। কিন্তু ভাষা এখানে এসেছে বাঙালি জাতীয় সত্তার প্রধান পরিচয় হিসেবে। ভাষা তো জাতীয় পরিচয়ের প্রধানতম দিক। একুশের মধ্য দিয়েই পাকিস্তান-পরবর্তী যুগে প্রথম বাঙালি জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল। আর তারই পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। একুশের মধ্যে আমরা বাঙালি সত্তাকে খুঁজে পাই। দুনিয়াজোড়া ইতিহাসেও দেখা গেছে, ধর্মীয় অনুভূতি বা শ্রেণিচেতনার চেয়েও অনেক বেশি প্রবল ও আবেগ সৃষ্টিকারী হয়ে থাকে জাতীয় সাংস্কৃতিক অনুভূতি। একুশের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য এখানেই।

একুশের চেতনা এতটাই প্রবল ও ব্যাপক যে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত দুর্গম অঞ্চলেও শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে। একুশের মধ্যরাত বা ভোরে শহীদ মিনারের পুষ্পস্তবক দেওয়া একটা সাধারণ রীতিতে পরিণত হয়েছে। যখন কোনো ভাবাদর্শ বা চেতনা গোটা জাতির অস্থিমজ্জার সঙ্গে মিশে যায়, তখন তার প্রকাশ রীতির রূপ ধারণ করতে পারে। একুশের আনুষ্ঠানিকতাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা মনে করলে ভুল হবে। এর সঙ্গে আছে জড়িত আছে জাতীয় চেতনা—বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা।

পাকিস্তান আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতিসত্তাকে অস্বীকার করার ভাবাদর্শ। জিন্নাহ সাহেব ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কথা বলেছিলেন। স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আমাদের দেশের মুসলমান জনগোষ্ঠী পাকিস্তান আন্দোলনের প্রতিক্রিয়াশীল স্রোতে ভেসে গিয়েছিল। নানাবিধ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক কারণে মুসলমান জনগোষ্ঠীর সব শ্রেণিই আশা করেছিল, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হলে তারা লাভবান হবে। কৃষক ভেবেছিল, সে হিন্দু জমিদারদের শোষণ থেকে মুক্ত হবে। মধ্যবিত্ত আশা করেছিল, চাকরি ও ব্যবসায় হিন্দু প্রতিযোগী থাকবে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এ জনগোষ্ঠী বাঙালি সত্তাকে পরিত্যাগ করতে রাজি ছিল। মুসলিম লীগ নেতারা এটা বুঝতে ভুল করেছিলেন। তাই জিন্নাহ অত সহজে বাংলার বদলে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিলেন।

এমন ভুল বোঝার কিছু কারণও আছে। এই দেশের মুসলিম অভিজাত পরিবারে বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করা হতো। তারা ঘরে উর্দুতে কথা বলত। জিন্নাহসহ মুসলিম লীগ নেতারা সেটাই দেখেছেন এবং তাকেই একমাত্র সত্য মনে করেছেন। জনগণের মন বোঝার চেষ্টাও তাঁরা করেননি। মুসলিম জাতীয়তাবাদের উদ্ভব কিন্তু আরও আগে। ঊনবিংশ শতাব্দীতেই বাংলাদেশের দুই মুসলমান ব্যক্তিত্ব নবাব আবদুল লতিফ ও বিচারপতি সৈয়দ আমীর আলী মুসলমানদের ইংরেজি ও পাশ্চাত্যের শিক্ষার জন্য উদ্যোগী হলেও তাঁরা বাংলা ভাষাকে হিন্দুর ভাষা মনে করতেন। মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা প্রসারের জন্য তাঁরা দুজন যথাক্রমে ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি’ ও ‘ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে বাংলা ভাষায় কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল। ফরিদপুরের খাস বাঙাল পরিবারে জন্মগ্রহণকারী আবদুল লতিফ পরবর্তী সময়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছিলেন, নবাব ও খানবাহাদুর পদকে ভূষিত হয়েছিলেন। তিনি মুসলিম জাতীয়তাবাদের উৎস খুঁজতেন ভারতবর্ষের বাইরে আরব, ইরান, তুরস্কের ইতিহাসের মধ্যে। একই সময়ে হিন্দু পুনর্জাগরণবাদেরও উদ্ভব হয়েছিল।

একদিকে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশ, অন্যদিকে হিন্দু, মুসলমান, কৃষক, সিপাহি, শ্রমজীবী জনগণের মিলিত সংগ্রাম—দুই পরস্পরবিরোধী ধারা পাশাপাশি চলেছে গোটা ব্রিটিশ জামানায়। চল্লিশের দশকে সাময়িকভাবে তথাকথিত মুসলিম জাতীয়তাবাদ জয়লাভ করলেও তা যে কত ভঙ্গুর ছিল, তা একুশের আন্দোলন দেখিয়ে দিল। বস্তুত একুশের আন্দোলনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এই যে তা পাকিস্তানি ভাবাদর্শকে প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা দিতে সক্ষম হয়েছিল, যদিও তখনই পাকিস্তানি রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার মতো জায়গায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যায়নি। কিন্তু তেমন জায়গায় পৌঁছাতে বেশি সময়ও লাগেনি। মাত্র এক প্রজন্মের মধ্যে বিরাট পরিবর্তন ঘটে গেল। যাঁরা একদিন পাকিস্তানের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন, তাঁদের সন্তানেরাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করছিলেন। চেতনার জগতে এই যে পরিবর্তন, তার সূচনা হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই।

একুশের চেতনা এক অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা পাকিস্তানি ভাবাদর্শকে খণ্ডন করেই ভাস্বর হয়ে ওঠে। একুশের চেতনা মানে হলো অবৈজ্ঞানিক ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে মিথ্যা প্রমাণ করে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা বা সেক্যুলারিজমকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা।

তবে এখানে যে কথাটা বিশেষভাবে বলা দরকার, তা হলো ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে আমরা পাকিস্তানি ভাবাদর্শকে পরাজিত করতে সক্ষম হলেও সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে পারিনি। হিন্দুবিদ্বেষ ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা এবং পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি বিদ্বেষ ছিল পাকিস্তানি ভাবাদর্শের মূলকথা। সেটা এখনো মাঝেমধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। বর্তমানে তা উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদের রূপ নিয়েছে। তারাই পয়লা বৈশাখকে বাঙালির সর্বজনীন উৎসবরূপে না দেখে এর ভেতর হিন্দুয়ানির

চেহারা দেখে। সে জন্য তারা পয়লা বৈশাখের সংগীতানুষ্ঠানে বোমা নিক্ষেপ করে মানুষ মারে। দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য যে আওয়ামী ওলামা লীগও পয়লা বৈশাখের উৎসবকে ইসলামবিরোধী বলে আখ্যা দেয়। বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আড়ালে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতির মধ্যে মুসলমানি রং লাগাতে চায়।

তাই একুশের সংগ্রাম এখনো অব্যাহত আছে। তবে আশার কথা এই যে একুশের মধ্যে যে বাঙালি জাতীয় চেতনা ও আবেগ আছে, তা প্রচণ্ড শক্তি হিসেবে এখনো বর্তমান রয়েছে। আমাদের অস্থিমজ্জায় ভাষায় ও সংস্কৃতিতে এবং ইতিহাসে যে চেতনা গাঢ় হয়ে মিশে আছে, তাকে ধ্বংস করা অত সহজ নয়। একুশের মিছিল, একুশের স্লোগান, একুশের গান সেই অপশক্তিকে বারবার রুখেছে, এখনো রুখবে।
Share:

পুরাতন সংবাদ

Definition List

Unordered List

Support